সাতক্ষীরা তালায় কথিত বিএনপি চরমপহ্নি নেতা ফারুক জোয়ার্দ্দারের কাণ্ড : লুটপাট, চাঁদাবাজি আড়াল করতে এনজিওর সদস্য ডেকে মিছিল
স্টাফ রিপোটারঃ
/ ১৯৩
বার পড়া হয়েছে
আপডেট সময়ঃ
বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫, ১১:৩৭ অপরাহ্ন
সংবাদটি শেয়ার করুন
তালায় একের পর এক তুঘলকি কাণ্ড ঘটিয়ে চলেছেন কথিত এক চরমপহ্নি নেতা। গেল শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজেকে তালা প্রেসক্লাবের নামে নিজেকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষনা দিয়ে থেমে থাকেননি।
এরপর তালা প্রেসক্লাবের বৈধ কমিটর সভাপতি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে দাঁড় করিয়ে দেন। পরে তালা উপশহরে একটি মিছিলের নেতৃত্ব দিতেও দেখা যায় চরমপহ্নি নেতা ফারুক জোয়ার্দ্দারকে। এছাড়া কথিত স্বঘোষিত বিএনপি নেতা পরিচয়ধারী তিনি।
অভিযুক্ত ফারুক জোয়ার্দ্দার ২০০১ সালে ছিলেন তালা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। এরপর চরমপহ্নি দলের সম্পৃক্ত থাকায় তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পালিয়ে যান মালয়েশিয়া। এক দশকেরও বেশী সময় অবস্থান করেন সেখানে।
২০২২ সালে দেশে আসার পর বিএনপির রাজনৈতিক কোন কর্মকাণ্ডে তাকে সরাসরি দেখা যায়নি। তবে টাকা ছড়িয়ে হয়ে ওঠেন তালার আ.লীগ নেতাদের প্রিয়জন। আড়াল করে ফেলেন চরমপহ্নি পরিচয়।
বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, গেল ২০২৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে আ.লীগ নেতা সরদার মশিয়ার রহমানের পক্ষে সরাসরি মাঠে নামেন। বিএনপি ভোট ব্যাংক মশিয়ার রহমানকে দিয়ে ভোটে জয়ী করতে মাঠে ময়দানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে দেখা যায় ফারুক জোয়ার্দ্দারকে।
২০২৪ সালে ৫ আগষ্টের পর তাণ্ডব, লুটপাট, চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। নিজেকে তালা বিএনপির নিয়ন্ত্রক হিসেবে জাহির করে আসছেন। বর্তমানে আ.লীগের নেতারা পুলিশের অভিযানে আটক হলে তাদের ছাড়াতে থানায় তদবির করতেও দেখা যাচ্ছে এই ফারুক জোয়ার্দ্দারকে।
তালার জেয়ালা ঘোষপাড়ার একাধিক ব্যক্তি জানান, গত ৫ ই আগস্ট জেয়ালা শেখেরহাট ঘোষপাড়া গরু ট্রাকে করে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে ৩০ লক্ষ টাকার চাঁদাবাজি করে। স্বদেশ ঘোষের দোকানেন ১৫০০ বস্তা ফিড লুট করে ও তুষার ঘোষে দোকান থেকে ডিজেল,পেট্রোল,কীটনাশকসহ নগদ টাকা লুট।
সুভাষ ঘোষের দোকান ঘর থেকে ৪০০ বস্তা চাউল লুট করে। কিন্তু তারা ভয়ে আইনের আশ্রেয়ে যেতে পারেননি। বিএনপির কোন পদে না থাকলেও এমন দেখায় সে বিএনপির কর্ণধর।
তালা পুরাতন ফুটবল মাঠের কোনে থাকা দোকান মালিক জাহিদ অর রশিদ জানান, তার দোকান থেকে দামি কসমের্টিক্স ফার্নিচারসহ নগদ ৮৫ হাজার টাকা মিলে ১০-১২ লক্ষ টাকার মালামল লুট করেছে ফারুক জোয়ার্দ্দার।
আমাদের চারটি দোকান ঘর ভাংচুর করে নিশ্চিহ্ন করেছে। চারটি দোকান ঘরের মধ্যে বিউটি পার্লার ও আসাদ আট ঘর এবং আমার কসমের্টিক্স দোকান ছিল।
ফারুক জোয়ার্দ্দারের ক্লিনিকের সামনের দক্ষিণ পার্শ্বে সরকারী রাস্তা থাকলেও পূর্ব পার্শ্বের চারটি দোকান ভেঙ্গে ক্লিনিকের জায়গা প্রশারিত করেছে ৫ আগস্ট। চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ সব সময় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত।
ভয়ে মুখ খুলতে সাইস পাচ্ছেন না অনেকেই। বিদেশে পাঠানোর নামে অর্ধশত কোটি টাকারও বেশী বিভিন্ন মানুষদের টাকা আত্নসাৎ করে সর্বশান্ত করেছে। তার অত্যাচারে এলকাবাসী অতিষ্ট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত দাবি করছি।
এদিকে, প্রেসক্লাব দখল ঘিরে একদিকে হাস্যরস অন্যদিকে খোদ বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝেই প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এটিকে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে মনে করছেন অনেকে।
তালা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সাঈদুর রহমান সাঈদ বলেন, যাদের দলীয় কোনো পদ পদবী নেই, দায়িত্ব নেই যারা নিজেকে বিএনপির অনেক বড় নেতা মনে করছে, আসলে দল তাদেরকে দলীয় হিসেবে গ্রহণ করেনি। তারা যেসব অপকর্ম করছে এর দায়ভার আমাদের দল কখনোই নেবে না।
আমরা যারা সচেতন রয়েছি, মাঠের লোক রয়েছি আমরা এই সকল অপকর্মের অন্যায়ের বিরুদ্ধে অতীতেও ছিলাম, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধেও ছিলাম। এখন যারা আমাদের দলকে বিতর্কিত করার জন্য চেষ্টা করছেন তাদের বিরুদ্ধে আমাদের স্বোচ্ছার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে তালা কলারোয়া হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে বিজয়ী করার জন্য গ্রাম, ওয়ার্ড, পাড়া মহল্লায় সকল অঙ্গসহযোগী সংগঠণ আমরা একযোগে কাজ করছি। তাকে নির্বাচিত করেই আমরা ঘরে ফিরবো।
সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহবায়ক রহমতউল্লাহ্ পলাশ জানান, যে কোন অবৈধ দখলকে আমরা বা আমাদের দল সমর্থন করে না। আমরা এটি বার বার বলছি।
যাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। প্রেসক্লাব দখল করে নিবেন এটি ঠিক নয়। এ ব্যাপারে আমি কথা বলবো। ঘটনাটি তালা-কলারোয়া আসনের সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।
সাতক্ষীরা-১ তালা-কলারোয়া আসনের সাবেক সংসদ, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, আসলে ফারুক বিএনপির কোন পদে নেই। আমরা তাকে অনেক বার বলেছি।
সে আমাদের দলের কেউ না। প্রেসক্লাব কেন্দ্রেক একটা কমিটি করেছে এতে দল সম্পৃক্ত নয়। দু’একজনের জন্য দল পিছিয়ে যাবে না। আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।