দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় তলায় মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডের রোগীরা গরমে ছটফট করছে। দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে আরো বেশি অসুস্থতাবোধ করছেন রোগীরা। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বেশ কিছু জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীরা ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এদের মধ্যে নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী মা, মাতৃত্বকালীন মা, সকল ধরনের রোগী রয়েছেন। তবে সরকারি হাসপাতালে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষুদ্ধ রোগীরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালে জেনারেটোর বা আইপিএস ব্যবস্থা চালু হওয়ার প্রত্যাশা করেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসান হাবীব বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আইপিএস আছে, তবে একটা আইপিএস দিয়ে পুরো হাসপাতাল কাভার করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ডাক্তারের কক্ষসহ জরুরি জায়গাগুলোতে আইপিএস সংযোগ দিয়ে রোগীর ওয়ার্ড দু’টোতে শুধু লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোপূর্বে উপজেলা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছি। রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়টা মাথায় রেখে তাড়াতাড়ি জেনারেটর ব্যবস্থা হয়ে যাবে বলে আশা করি।’
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, দেওয়ানগঞ্জে দিনরাত ২৪ ঘন্টায় মাত্র ৬ থেকে ৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে। বাকিসময় দেখা মেলে না বিদ্যুতের। পল্লী বিদ্যুতের দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম ইয়াহিয়া সিদ্দিকী মারফত জানা যায়, দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভাসহ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে মোট ১৫৭১ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইনে বর্তমানে ৪৭ হাজার ৫৯৯ জন গ্রাহক রয়েছেন। এসব গ্রাহকের অনুকূলে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১২ মেগাওয়াট। সেখানে পাওয়া যাচ্ছে ৫ মেগাওয়াট। কোনো একটি লাইনে সমস্যা হলে বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ থাকে। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ আমরা পেয়ে থাকি। যতটুকু পাই তা প্রত্যেক এলাকায় সমভাবে বণ্টন করা হয়।