
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় এক নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে পথরোধ করে শ্লীলতাহানি, মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী স্থানীয় দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন সৈয়দ হেমায়েত আলী ওরফে ছোটবাবু ও মীর আওরঙ্গজেব।
ভুক্তভোগী ওই নারী (৩৬) উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে পরিবার কল্যাণ সহকারী হিসেবে কর্মরত। তিনি জানান, তার স্বামী দীর্ঘ দিন প্রবাসে থাকার সুযোগে অভিযুক্তরা তাকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব ও হয়রানি করে আসছিল। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় শুরুতে কেউ তার অভিযোগ আমলে নিতে চায়নি। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপে গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জানুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে অফিস শেষ করে ৯ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ওই নারী। পথে অভিযুক্তরা তাদের গতিরোধ করে এবং জোরপূর্বক পাশের একটি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। মাকে বাঁচাতে গেলে শিশু সন্তানকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী বলেন, “ঘটনার সময় আমার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় এ বিষয়ে কাউকে কিছু বললে আমাকে ও আমার সন্তানকে হত্যা এবং চাকরির ক্ষতি করার হুমকি দেয়।” ঘটনার পর তিনি কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেশ কয়েক দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশেষ করে এক অভিযুক্তের বাড়ি সন্তানের স্কুলের কাছে হওয়ায় শিশুটিকে বিদ্যালয়ে পাঠাতেও আতঙ্কিত বোধ করছেন মা।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সৈয়দ হেমায়েত আলী ও মীর আওরঙ্গজেবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল হোসেন বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Leave a Reply