
রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়ে যেখানে সেখানে পড়ে থাকা পলিথিন কুড়িয়ে তা বাড়িতে নিয়ে আসা। তারপর সেসব পলিথিনে মাটি, সার ও বীজ ভরে চাড়া গাছ উৎপাদন, এরপর সাইকেল নিয়ে পাড়া মহল্লায় ঘুরে সেসব গাছ ও বই বিতরণ, বই পড়ানোসহ পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে উদ্বুদ্ধ করে আসছেন তিনি। এরই মাঝে এলাকায় সাদা মনের মানুষ হিসেবেও মিলেছে বেশ পরিচিতি। স্থাপন করেছেন ছোটখাটো পাঠাগার। শুধু তাই নয়, তার উদ্ভাবিত খোলা আকাশ পাঠশালায় শিশুদের শিক্ষামূলক গল্প শোনানোর মধ্য দিয়ে বিতরণ করেন পরিবেশ ও সমাজ সচেতনতার বার্তাও।
দুই যুগের বেশি সময় ধরে চালানো তার এ কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ তাই এবছরে আজকে পেতে যাচ্ছেন 'জাতীয় পরিবেশ পদক - ২০২৪' পুরস্কার। তবে, মোটেও মসৃন ছিলোনা তার এ পথ। শুনতে হয়েছে অনেক তাচ্ছিল্য পূর্ণ কটু কথা। তবে, হৃদয়ে ধারন প্রকৃতি প্রেম ও সমাজের প্রতি দ্বায়বদ্ধতা দমাতে পারেনি রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে বাংলায় মাস্টার্স পাশ করা এ যুবককে।
মা মাহমুদা বেগমের দুই সন্তানের মধ্যে মাহমুদুল ছোট। ছেলের কর্মকান্ডে প্রথমের দিকে আপত্তি করলেও পরে তাকে উৎসাহ যোগাতেন মা। ছেলের এ অর্জনে আনন্দিত ও গর্বিত।
আর মাহমুদুলের এই অর্জনকে অভিনন্দন জানিয়ে পরিবেশ, সমাজ তথা দেশকে সমৃদ্ধ করতে মাহমুদুলের মত সবার নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসা উচিৎ বলে মনে করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জেলার নেতৃবৃন্দ।
জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী বলেন, "এই স্বীকৃতি আমি মনে করি মাহমুদুলকে আরও এই পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য কাজ করতে আরও অনুপ্রাণিত করবে। মাহমুদুলের মত আমরা সবাই যেন পরিবেশের প্রতি সদয় হই।"
মানুষের বাসযোগ্য করে রাখতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধ করতে, মাহমুদুল ইসলাম মামুনের ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ এখন প্রশংসা কুড়াচ্ছে সবার মাঝে। দুই দশক ধরে আন্তরিকতার সাথে তার কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ এ পুরস্কার প্রাপ্তিই হবে সবার অনুপ্রেরণার উৎস, এমনটিই মনে করছেন এলাকাবাসী।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ শরিফুল ইসলাম
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
E-mail: dailyajkersomoy@gmail.com
অফিসঃ- ০১৭১৬-৩০৮০৮১, বিজ্ঞাপনঃ- ০১৯১৩-৬৮৬২০০